রবি. জানু ২৬, ২০২০

কালনী নদী

সুনামগঞ্জ জেলার মোট নদ-নদীর সংখ্যা-২৪টি । তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কুশিয়ারা, কালনী, পিয়াইন, মরা সুরমা, ডাহুক। এছাড়াও দিরাই উপজেলা হাওড় বেষ্টিত। কালনী নদী তাদের মধ্যে অন্যতম। সুনামগঞ্জ জেলার একটি নদী । কালনী নদী বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারার সাথে সংযোগ স্থাপনকারী যে নদীটি, সেটি কালনী নদী নামে পরিচিত। দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের মার্কুলী নামক স্থান থেকে কুশিয়ারার সাথে সংযোগ নিয়ে কালনী নদী উত্তরে অবস্থিত জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও সদর উপজেলার কিছু অংশ ঘেঁষে সুরমায় পতিত হয়েছে। তবে দিরাই উপজেলার মার্কুলী থেকে রানীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত নদীকে মূলত কালনী বলে, আর রানীগঞ্জ থেকে সদর উপজেলার পাঁচহাত ধনপুর গ্রাম হয়ে সুরমায় পতিত হওয়া অংশকে শাখা সুরমা বলে।

কালনী নদী দক্ষিণ দিকে এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রামে আপার মেঘনায় পতিত হয়েছে। প্রবাহ পথে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম উপজেলা অতিক্রম করেছে ।

কালনী নদী বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুনামগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৩২ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৫৭ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক কালনী নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ১৫

নদীটি বারোমাসি নদী অর্থাৎ পানির প্রবাহ সারা বছরই থাকে। নৌযান চলাচলের উপযোগী থাকে। শুষ্ক মৌসুমে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস পানির প্রবাহ কম হলে গভীরতা ৬.৫ মিটার পর্যন্ত লক্ষ করা যায়। আর বর্ষায় নদীটির পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে ১২ মিটার পর্যন্ত হয় ।

কালনী-কুশিয়ারা নদীর একটি শাখা পুরাতন কুশিয়ারা। নবীগঞ্জের শেরপুর অঞ্চল হতে নবীগঞ্জের ভাটিতে বয়ে উত্তর হাওর হয়ে আজমিরিগঞ্জে কালনী নদীতে মিলিত হয়েছে। অন্যান্য নদীগুলো এ নদীর শাখাপ্রশাখা।

নদীর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাজার/ শহর
দিরাই, ধর্মবাজার, মারকুলি, আজমিরিগঞ্জ ও অষ্টগ্রাম

হাওড়
উল্লেখযোগ্য হাওড়সমূহ হলো চাপতির হাওড়,বরাম হাওড়, কালিয়াকোটা, ও সোনাডুবি হাওর অবস্থিত।

নদীর দৈর্ঘ্য :
নদীর দৈর্ঘ্য ৮২ কিমি
অববাহিকার আয়তন ২৯৬৭ কিমি

পানি প্রবাহের পরিমাণ :
শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রবাহের পরিমাণ ৬.৫ মিটার/ সেকেন্ড পৌঁছায়।
বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহের পরিমাণ ১২ মিটার /সেকেন্ড

নৌ-রোড :
নদীটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃক নির্ধারিত ৪র্থ শ্রেণীর নৌ-পথ।

নদী নং :
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক বিবিয়ানা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ১৫ ।

তথ্যসূত্র
১. বাংলাদেশের নদীকোষ, ড. অশোক বিশ্বাস, গতিধারা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা ১৬০ ।
২.বাংলাদেশের নদ নদী , ম ইনামুল হক, জুলাই ২০১৭, অনুশীলন, পৃষ্ঠা ৯২, মানচিত্র ৪৫
৩. শ্রী হট্টের ইতিবৃত্ত পূর্বাংশ – অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি, পৃষ্ঠা ৩৮ প্রকাশক – মোস্তফা সেলিম, উৎস প্রকাশন ২০১৭
৪. বাংলাদেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওয়েবসাইট ০৬.১০.২০১৯
৫. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ওয়েবসাইট ০৬.১০.২০১৯
৬. সুনামগঞ্জ জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য, আবু আলী সাজ্জাদ হোসাইন, ডিসেম্বর ১৯৯৫, পৃষ্ঠা ২৮৮

Developed by - Web Nest Ltd.

Helpline - +88 01719305766