শুক্র. আগ ৭, ২০২০

লিটনের ব্যাটে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত রাজশাহীর

দুই দলের প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরও ম্যাচটি গুরুত্বহীন ছিলো না। জিতলে বঙ্গবন্ধু বিপিএল’র পয়েন্ট তালিকায় সেরা দুইয়ে থাকা নিশ্চিত- এমন সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নামে রাজশাহী রয়্যালস-চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। গতকাল মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ওপেনার লিটন দাসের ফিফটিতে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ৮ উইকেটে হারায় রাজশাহী। ফাইনালের মঞ্চে উঠার জন্য এখন দুটি সুযোগ পাচ্ছে দলটি। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল প্রথম কোয়ালিফায়ারে অংশ নেবে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া দল এলিমিনেটরে জয়ী দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫৫/৫-এ থামে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। জবাবে ১৪ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী। এক ছক্কা ও ১১ বাউন্ডারিতে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৮ বলে ৭৫ রান আসে লিটন দাসের ব্যাট থেকে। ম্যাচ সেরাও হয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও ফিফটি হাঁকান লিটন। ১২ ম্যাচে ৩ ফিফটিতে তার সংগ্রহ ৪২২ রান।
রান তাড়ায় নেমে লিটন-আফিফের উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের পথে অর্ধেক এগিয়ে যায় রাজশাহী রয়্যালস। আফিফ হোসেন ৩১ বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ৩২ রানে নাসুম আহমেদের শিকার হন। তাতে ভাঙে ৮৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। তবে ফর্মের তুঙ্গে থাকা লিটন দাস ফিফটি তুলে নেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৪৮ বলে ১১ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৭৫ রান করে জিয়াউর রহমানের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন লিটন। গত বুধবার চট্টগ্রামের বিপক্ষেই ৫৬ রানের আরেকটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন লিটন দাস। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শোয়েব মালিকও ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। ২ ছক্কা ও ৩ বাউন্ডারিতে ২৫ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। নাসুম আহমেদ ও জিয়াউর রহমান প্রত্যেকে নেন ১টি করে উইকেট।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহীর বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে খোলসবন্দি দুই ওপেনার ক্রিস গেইল ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় শোয়েব মালিককে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ফরহাদ রেজার হাতে ধরা পড়েন জুনায়েদ সিদ্দিকী (২৩ বলে ২৩)। দলের রান তখন ৬.২ ওভারে ৩৮। ক্রিস গেইলের ব্যাটে ঝড় ওঠার আগেই আফিফ হোসেনের স্পিন ঘুর্ণিতে আন্দ্রে রাসেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্বঘোষিত ‘ইউনিভার্স বস’ (২১ বলে ২৩)। ছয় বল পরেই ইমরুল কায়েসও (১৮ বলে ১৯) তাইজুল ইসলামের শিকার হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন। পাঁচে নেমে দুই অঙ্কে পৌঁছতে ব্যর্থ চ্যাদউইক উইলিয়ামস (৬ বলে ৪)। পঞ্চম উইকেটে নুরুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ৩৮ রানের জুটি গড়েন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ব্যাট হাতে ঝড় তোলা নুরুল হাসানকে (১৭ বলে ৩০) ফেরান পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ ইরফান। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ একপ্রান্ত আগলে রেখে ৩৩ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ ওভারে ১৭ রান তুলে চট্টগ্রামের ইনিংস শেষ হয় ১৫৫/৫-এ। বল হাতে ১টি করে উইকেট শিকার করেন আফিফ হোসেন, আবু জায়েদ রাহী, তাইজুল ইসলাম, শোয়েব মালিক ও মোহাম্মদ ইরফান।
লীগ পর্বে ১১ ম্যাচে ৪৪৪ রান সংগ্রহ ডেভিড মালানের। সমান ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের রাইলি রুশো ৪৩৫ ও মুশফিকুর রহীম ৪৩১ রান সংগ্রহ করেন। বল হাতে রংপুর রেঞ্জার্সের মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার ১২ ম্যাচে ২০ উইকেট। খুলনা টাইগার্সের শহীদুল ইসলাম ১০ ম্যাচে নেন ১৭ উইকেট। ৮ ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানার শিকার ১৭ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: রাজশাহী রয়্যালস, ফিল্ডিং
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ২০ ওভারে ১৫৫/৫ গেইল ২৩, জুনায়েদ সিদ্দিকী ২৩, মাহমুদুল্লাহ ৪৮*, সোহান ৩০; মালিক ১/১১, জায়েদ ১/১২)
রাজশাহী রয়্যালস: ১৭.৪ ওভারে ১৫৬/২ (লিটন ৭৫, আফিফ ৩২, মালিক ৪৩*; জিয়াউর রহমান ১/১৭)
ফল: রাজশাহী ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: লিটন দাস (রাজশাহী)।

Developed by - Web Nest Ltd.

Helpline - +88 01719305766