রাজনীতি

খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ফের বৃদ্ধি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ফের বাড়িয়েছেেন হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত তার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন।

এদিকে এ মামলায় সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিলের ওপর হাইকোর্টের এই বেঞ্চে শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ১২তম দিনে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রেজাক খান, জয়নুল আবেদীন,মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন কায়সার কামাল, এহসানুর রহমান ও মাসুদ রানা।

দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। বৃহস্পতিবার মামলার রায় থেকে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি পড়ে শুনান আইনজীবীরা।

এহসান বলেন, বুধবার খালেদা জিয়ার আপিল শুনানিতে পেপারবুক থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন।

এ মামলায় ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুজন হলেন-মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

পলাতক তিনজন হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড.কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।

একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান,মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল,ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ,ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি তারা এ আবেদন করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ এবং অর্থদণ্ড স্থগিত করে নথি তলব করেন।

এরপর ৭ মার্চ অপর আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। পরে ২৮ মার্চ খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের করা আবেদনে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।

১০ মে আরেক আসামি শরফুদ্দিনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আদালত। এখন তিন আসামির আপিল ও দুদকের আবেদনের রুল এ আদালতে শুনানি হচ্ছে।

এ মামলায় খালেদা জিয়াকে ১২ মার্চ হাইকোর্ট চার মাসের জামিন দেন। চার মাস শেষে ১৯ জুলাই পর্যন্ত তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় দফায় ২৬ জুলাই, তৃতীয় দফায় ৩১ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করেন হাইকোর্ট।

এরপর আবার ৮ আগস্ট পর্যন্ত জামিনের মেয়াদ বাড়ে। এবার বুধবার পঞ্চম দফা বাড়ানো হলো।

Jugantor

Show More
W3 Techniques

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close